Hot Posts

6/recent/ticker-posts

"সোনার তরী " কাব্য আলোচনা /বিষয়বস্তু


---সোনার তরী কাব্য আলোচনা, বিষয়বস্তু, সোনার তরী কাব্যের প্রকৃতিপ্রেম, সোনার তরী কবিতার ব্যাখ্যা, মর্ত্যেপ্রীতি, বসুন্ধরা কবিতার বিষয়বস্তু, সমুদ্রের প্রতি কবিতার বিষয়বস্তু---

**বিঃদ্র-বাংলা বিভাগের সকল পড়াশোনা পেতে ব্লগটিতে যুক্তথাকুন   https://monoweredu13.blogspot.com/?m=1

 

বাংলা সাহিত্যের প্রাণ পুরুষ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলা সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রে তার পদচারণায়, বাংলা সাহিত্যে নতুন প্রাণ পেয়েছে।সকল  বিষয়ে পারদর্শিতা তাকে উচ্চ আসনে স্থান করে দিয়েছে।কি উপন্যাস, কি ছোট গল্প, কি নাটক কিংবা কাব্য,, সব গুলো বিষয়ে তার উপযুক্ত সাহিত্য চর্চা, অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য।তার লেখা কাব্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে "সোনার তরী" কাব্য গ্রন্থটি অন্য- তম।

রবীন্দ্রনাথের জীবনে সব চেয়ে প্রভাব বিস্তার করিয়াছে পদ্মা নদী । শুধু এই পর্বে কেন, তাঁহার বিভিন্ন কাব্যের অন্তরে সূক্ষ্ম স্বর্ণসূত্রটির মত পদ্মার প্রভাব প্রবাহিত। ক্ষণিকার পরে আর তাহার বাস্তব রূপ চোখে পড়ে না বটে, কিন্তু পদ্মারই আদর্শ একটি অখণ্ড অচ্ছেদ্য গতিরূপে সর্বত্র প্রসারিত। মর্ত্যালোকের এই পদ্মাই আদর্শায়িত হয়ে বলাকার আকাশগঙ্গায় পরিণত হইয়েছে।

সুতরাং রবীন্দ্রনাথের কাব্য বুঝতে পদ্মাকে বোঝা আব শ্যক। শুধু পদ্মাকে নয়, ভারতবর্ষের পূর্বপ্রাস্তশায়ী এই দেশের যে বৈশিষ্ট্য বাংলার প্রাণ-প্রতীক এই নদী প্রকাশ করছে তাহাও না বুঝলে চলবে না! কারণ রবীন্দ্র প্রতিভা ভারতীয় ও বঙ্গীয় বৈশিষ্ট্যের দ্বন্দ্বে উপজাত! পদ্মা বিশেষ করিয়া বাংলার নদী। গঙ্গার সহিত ইহার নাড়ির যোগ আছে, কিন্তু পথেরযোগ নাই। সমস্ত ভারতবর্ষের ধারাকে হঠাৎ অস্বীকার করে খামখেয়ালি কবিকল্পনার মত ইহা স্থৈর গতিতে অজানিত পথে ছুটে চলছে। সোনার তরী পর্বে যেমন পদ্মার গুরুত্ব, চিত্রা কাব্যে সেই গুরুত্ব জীবন দেবতার। জীবনদেবতা কি সে বিষয়ে আমরা চিত্রা-প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে ; এখানে জীবন দেবতা সম্বন্ধে সাধারণ বক্তব্য যা আছে তা বলা হবে।

সোনার তরীতে জীবনদেবতা পূর্ণভাবে স্বমূর্তিতে প্রকাশ পান নাই। প্রধানত তিনি কবিতা ও কল্পনার মূর্তি আশ্রয় করেছেন। "মানসসুন্দরী"তেঃ-

- “এই যে উদার'

সমুদ্রের মাঝখানে হয়ে কর্ণধার

ভাসায়েছ সুন্দর তরণী,

দশ দিশি কী কথা বলিছে কিছু নারি বুঝিবারে,

অফুট কল্লোলধ্বনি চির দিবানিশি

এর কোনো কূল আছে?" 


আবার নিরুদ্দেশ যাত্রায়ঃ-

“আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে বলো, 

হে সুন্দরী??

কোন পার ভিড়িবে তোমার 

সোনার তরী!....


আর "সোনার তরী"র সেই প্রসিদ্ধঃ-

 

“গান গেয়ে তরী বেয়ে কে আসে পারে,

দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।

ভরা-পালে চলে যায়

কোনো দিকে নাহি চায়,

ঢেউগুলি নিরুপায়

ভাঙে দু-ধারে

দেখে যেন মনে হয় চিনি উহারে।"


এই তিন জন কি স্বতন্ত্রঃ ইঁহাদের মধ্যে জীবনদেবতার পূর্বাভাস; এরা কবির নিকট সম্পূর্ণভাবে পরিচিত নন, কিন্তু কবি এটুকু বুঝতে পেরেছেন, তার জীবনতরণীর হালটা ইহাদের মুঠার মধ্যে। তাঁহারা এখনও সম্পূর্ণভাবে কবির জীবনটাকে আয়ত্ত করেন নাই, তবে কবির কাব্য অনেকটা তাঁহাদের আয়ত্তের মধ্যে এসে পড়েছে।

দ্বিতীয় স্তরের প্রধান আলোচ্য বিষয় "অন্তর্যামী" কবিতা। এখানে জীবনদেবতা কবির – জীবনে আরো গভীর ছায়াপাত করিয়াছেন। কবির কাব্য প্রেরণা উৎসের ধারে তাঁহার ব্রাস। ইহার পূর্বে ছিল এই উৎসের জলে তাঁর ছায়াপাত। কিন্তু এবার এই উৎসের মূলেই তিনি। এতদিন ছিল তাঁর বিষয়ে কবিতা কিন্তু এবারে তিনিই কবিতার বিষয়। তৃতীয় স্তরে “জীবনদেবতা" কবিতাটি। এখানে দেখি কবির জীবনের ঘটনা ও মানসিক আবেগের তিনি নিয়ন্ত্রী। এতক্ষণে জীবনদেবতা নামটি যেন সার্থক হইয়াছে। চতুর্থ স্তরে এক বারের জন্য জীবনদেবতা বিশ্বদেবতায় পরিণত হয়েছেন।

কাব্যের গোড়াতে সোনার তরী, শেষে নিরুদ্দেশ যাত্রা। এই কবিতা দুইটি প্রতিভার ভিন্নমুখী দুটি ধারার প্রতীক। সোনার তরী ধারম্ভে অবস্থিত হইয়া কবির মানবাভিমুখিতার সুরটি ধরাইয়া দেয়; এবং খুব সম্ভবত, নিরুদ্দেশযাত্রার চূড়ান্ত অবস্থান নিরুদ্দেশ সৌন্দর্যের আকাঙ্ক্ষার প্রবণতা সূচনা করে।

"সোনার তরী " কবিতাটি চিত্ররসপ্রধান। পদ্মাতীরের অতি পুরাতন একটি ঘটনাকে অপূর্ব শব্দ-সঙ্গতি ওছন্দো-মাহাত্ম্যে আশ্চর্য চিত্রসম্পদ দান করা হয়েছে।বৈষ্ণব কবিতাতে মানবসমাজের প্রতি প্রীতি কবির চিত্তে উদ্বেল হইয়া উঠিয়াছে। যাঁহারা বৈষ্ণবপদাবলীকে মানবসংসার হইতে বঞ্চিত করিয়া কেবল ভগবান ও ভক্তের উপভোগে নিয়োগ করিতে চান কবি তাঁহাদের সহিত এক মত নহেন। ভক্ত ও ভগবান সংসার অতিক্রম করিয়া নাই।

"এই প্রেম-গীতি-হার 

গাঁথা হয় নর-নারী-মিলন মেলায়,

কেহ দেয় তারে, কেহ বঁধুর গলায়।

দেবতারে যাহা দিতে পারি, দিই তাই

প্রিয়জনে, প্রিয়জনে যাহা দিতে পাই"


"যেতে নাহি দিব"  কবিতার মূল ভাবটি পৃথিবীর প্রতি, জীবনের প্রতি গভীর আসক্তি। আবার সে আসক্তি বিজ্ঞ বয়ঃপ্রাপ্তের নহে। জীবনের অভিজ্ঞতা যাহার খানিকটা জন্মিয়াছে সে জানে 'জন্মিলে -মরিতে হবে, অমর কে কোথা ভবে’, কিন্তু চারি বছরের মেয়ে বুঝিতেই পারে না কেন যে তাহার পিতা তাহাকে ছাড়িয়া যাইবে। তাহার হৃদয়ের ব্যাকুল আগ্রহ সত্ত্বেও স্নেহময় পিতা ছাড়িয়া যানঃ-

"কী গভীর দুঃখে মগ্ন সমস্ত আকাশ, 

সমস্ত পৃথিবী। চলিতেছি যতদূর

শুনিতেছি একমাত্র মর্মান্তিক সুর 

“যেতে আমি দিব না তোমায়) "


"বসুন্ধরা" মানুষের জননী; সন্তানের দুঃখে তিনিও দুঃখিতঃ-

"বসুন্ধরা বসিয়া আছেন এলোচুলে

 দূরব্যাপী শস্যক্ষেত্রে জাহ্নবীর কূলে।

 একখানি রৌদ্রপীত হিরণ্য অঞ্চল"


"বসুন্ধরা" একটি অপূর্ব কবিতা। বিজ্ঞানের কোনো একটি মতবাদের সহিত সুসঙ্গত অথচ পরিপূর্যভাবে কাব্য, এমন কবিতা প্রায়ই দেখা যায় না। ইহাতে বিশ্বকে জানিবার দুর্দম আকাক্ষার সহিত, অন্তঃপুরবাসিনী ধরিত্রীকে জড়াইয়া থাকিবার ব্যাকুল আগ্রহ টানা-পোড়েনের মত বুনিয়া গিয়া বিচিত্র এক রসের সৃষ্টি করিয়াছে। এক দিকেঃ-

"নিখিলের

 সেই বিচিত্র আনন্দ মত এক মুহূর্তেই 

একত্রে করিব আস্বাদন, 

এক হয়ে, সকলের সনে"


"সমুদ্রের প্রতি" কবিতাটি দুই অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে সমুদ্র ও পৃথিবী; সমুদ্র মাতা, পৃথিবী একমাত্র কন্যা। সমুদ্র ও পৃথিবীর নানা প্রাকৃতিক দৃশ্যবৈচিত্র্যকে মাতা শিশু-- কন্যরি নানা ভাবে যাক্ত করা হইয়াছে। কখনো আশা, কখনো শঙ্কা, কখনো মহেন্দ্রমন্দিরপানে অন্তরের অনন্ত । সুকোমল কৌশলে সমুদ্র মাতার ন্যায় পৃথিবীকে বেষ্টন করিয়া ধরিতেছে, আবার কখনো স্নেহগবসুখে ধরিত্রীর নির্মল ললাট আশীর্বাদে আর্দ্র করিয়া যাইতেছে। মাঝে মাঝে সমুদ্র স্নেহক্ষুধার প্রচণ্ড পীড়নে তাহাকে চাপিয়া ধরিতেছে, আবার পরক্ষণেই নিতান্ত অপরাধীর ন্যায় পদতলে আসিয়া পড়িতেছে। মাতা ও কন্যার ভাব-অভিব্যক্তির বর্ণনায় কবি সাঁইত্রিশটি ছত্র– লইয়াছেন। যখন দুইটি পদার্থ ভিন্ন প্রকৃতির হয়, অথচ সেই আপাত পার্থক্যের মধ্যেও একটি গূঢ় ঐক্য থাকে, তখন তাহাদের মধ্যে উপমা চলিতে পারে, কিন্তু সর্বদাই দৃষ্টি রাখা দরকার উপমার আতিশয্যে তাহাদের আকৃতি ও প্রকৃতি ধিকৃত হইয়া না যায়। এখন, সমুদ্র ও পৃথিবী এই দুইটি পদার্থকে মাতা ও কন্যার সকল ভাবভঙ্গীতে কিছুদূর পর্যন্ত বর্ণনা করা চলে, তাহার বেশি গেলে অস্বাভাবিক হইয়া পড়ে। আমাদের মনে হয়, অতি উপমার চাপে এই স্বাভাবিকত্ব কিয়ৎ পরিমাণে বিকৃত হইয়া পড়িয়াছে।

""অতল গভীরতর

অন্তর হইতে কত সান্ত্বনার বাক্য অভিনব

আষাঢ়ের জলমন্দ্রের মতো,

 পাঠক যখন আদি জননীর সান্ত্বনার জন্য উৎসুক হইয়া ওঠে, 

তখন সে কি শোনে শান্তি, শান্তি-ঘুমা, ঘুমা,ঘুমা।""


সোনার তরীর শেষতম "নিরুদ্দেশ যাত্রায়" ইহার আভাস। গোড়ায় কবিতার মত এটিতেও সোনার তরী, সেই নদী, কেবল তাহাতে নাৰিকটি অপেক্ষাকৃত মনোরমঃ-

"ঊর্মিমুখর সাগরের পার

মেঘচুম্বিত অস্তগিরির, চরণতলে।

এ তরীর যাত্রীর চোখে পড়ে চঞ্চল 

আলো আশার মতন কাঁপিছে জলে।"


"আকাশের চাঁদ ও পরশ পাথর" দুটি কবিতাই এই এক ভাবকে প্রকাশ করিতেছে। একজন অপ্রাপ্য আকাশের চাঁদের সাধনায়, আর-একজন দুষ্প্রাপ্য পরশ-পাথরের সন্ধানে জীবনের সহজ-দুর্লভ ছোটখাটো আনন্দগুলিকে মাটি করিয়া দিলঃ-

"পথিকেরা এসে তাহারে শুধায়

কে তুমি কাঁদিছ বলি?

সে কেবল বলে নয়নের জলে"


"মানস সুন্দরী" রবীন্দ্রনাথের একটি শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। এটি বাস্তব ও আদর্শ দুই লোকের মধ্যে জার। কবির প্রেয়সী, কল্পনা ও বাস্তব রাজ্যের গোধূলি-আকাশের দিকপ্রাত্তশায়িনী সন্ধ্যার নিঃসঙ্গতারকা; কখনো সে পৃথিবীর দীপ, কখনো বা আকাশের তারা। কখনো সে একটি বিশিষ্ট নারীমূর্তিতে ধরা দেয়, আবার কখনো মূর্তি দীর্ণ করিয়া বিশ্বের সৌন্দর্যলোকে পরিব্যাপ্ত ইহয়া যায়ঃ-

"কার এত দিব্যজ্ঞান,

 কে বলিতে পারে মোরে নিশ্চয় প্রমাণ 

পূর্বজন্মে নারী রূপে ছিলে কিনা তুমি

 আমারি জীবনবনে সৌন্দর্যে কুসুমি

 প্রণয়ে বিকশি।"


"হৃদয়-যমুনাতে"এই একই সুর। এক হিসাবে ইহা রবীন্দ্র নাথের সমস্ত করিতার মধ্যে সর্বাপেক্ষা ত্রুটিহীন। নিজেকে উপভোগ করিবার মস্ত আয়োজন ইহাতে পরিপূর্ণতম। কবির হৃদয় হইতেছে যমুনা, তাহা আবার কূলে কূলে পূর্ণ, তাহাতে আবারঃ-

"আজি বর্ষা গাঢ়তম,

নিবিড় কুন্তলসম

মেঘ নামিয়াছে মম দুইটি তীরে"।


"হৃদয়-যমুনাতে" প্রেমের সূচনা ও পরিণাম সুকৌশলে দেখানো হইয়াছেঃ-

"যদি কলস ভাসায়ে জলে বসিয়া থাকিতে চাও..

আপনা ভুলে.."


এখন, সোনার তরীর মাঝি, নিরুদ্দেশ যাত্রার অপরিচিতা ইহারা কে? এবং ইহারা একই ব্যক্তি কিনা? যদি ইহারা এক ব্যক্তি হয়, তবে এ কে। এবং মানস-সুন্দরীতে যাঁহার উল্লেখ সে-ই বা কে?

"এই যে উদার

সমুদ্রের মাঝখানে হয়ে কর্ণধার

ভাসায়েছ সুন্দর তরণী, দশ দিশি

 অস্ফুট কল্লোপধ্বনি চির দিবানিশি।"

এই কর্ণধার কে? বর্ণনা দেখিয়া মনে হয় নিরুদ্দেশ যাত্রার নাবিকা এবং এ ভিন্ন নয় বাস্তবিকপক্ষে, এই তিন চিত্রই এক ব্যক্তির, এবং এ কবির জীবনদেবতা! 

সোনার তরীর কয়েকটি কবিতাকে আমরা রূপকথার পর্যায়ে ফেলিতে পারিঃ 

বিশ্ববর্তী, রাজার ছেলে ও রাজার মেয়ে, নিদ্রিতা সুপ্তোত্থিতা। এই ধারাটি 'কড়ি ও কোমল' হইতে শুরু; তাহার উপকথা, বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, সাত ভাই চম্পা এই পর্যায়ের+ পরবর্তী কাব্যের ভ্রষ্ট লগ্ন, সব পেয়েছির দেশের অভিজ্ঞতা গভীরতর ও ইঙ্গিত সুদূরতর প্রসারী হইলেও উহাদের ঠাটটি রূপকথার। বর্তমান কাব্যে ইহাদের মূল্য রূপকথার মারফতে কবির নিজের শৈশবকে পুনরায় উপভোগ করার চেষ্টায়।

সোনার তরীতে একটি বিদ্রূপাত্মক কবিতা আছে, হিং টিং ছট্। এই ধারাটিও পূর্ববর্তী 'মানসী' হইতে সুরু। মানসীর বঙ্গবীর, ধর্মপ্রচার, নববঙ্গ দম্পতির প্রেমালাপ বিদ্রূপাত্মক। পরবর্তী কাব্যের উন্নতি-লক্ষণ এই পর্যায়ের। “এক দিকে দেশের প্রতি ভালোবাসা আর-এক দিকে দেশহিতৈষিতার প্রতি উপহাস" কবি-চিত্তের এই দ্বন্দ্বের একটি দিক এইসব কবিতা প্রকাশ করিতেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ